নুসরাহ বা সাহায্যের মাধ্যমে খিলাফাত আসে নি- মূর্খের বিশ্লেষণ !
আদনান মেহেদি 5 January 2014 at 18:03
বিস্মিল্লাহি রাহমানিররাহিম।।
(বানান ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)(ট্যাগ করার জন্য দুঃখিত)
একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ইসলামি দল হিযবুত তাহরিরের দাবি হল, নুসরাহের মাধ্যমে রাসুল(সা)খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক, নুসরাহ চাওয়া শুরু হয়েছিল তায়েফ গোত্রের থেকে। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বলা আছে,
‘’ইবন ইসহাক বলেন, আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরায়েশরা রাসুল(সা)এর উপর এমন অত্যাচার শুরু করে যা আবু তালিবের জীবদ্দশায় কখনই করতে পারত না। তখন রাসুল(সা) তায়েফের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন‘’
আনুমানিক ৬০/৭০টা গোত্রের কাছে নুসরাহ/সাহায্য চাওয়ার সময় যে কথাগুলো রাসুল(সা) বলতেন, “তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহা নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল। আল্লাহযা যা প্রেরন করেছেন তা মেনে নাও। আর আমাকে নিরাপত্তা দাও কারন আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে হত্যা করতে চায়, এবং আমাকে সাহায্য কর যাতে আমি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাআমি সবার মাঝে পৌছুতে পারি ।”
এখানে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ যে, রাসুল(সা) তায়েফবাসী থেকে শুরু করে প্রায় আনুমানিক ৭০টা গোত্রের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতার/খিলাফাতের/দারুল ইসলামের কথা কোথাও বলেন নি। তাহলে প্রশ্ন জাগে, মদিনাবাসী কেনই বা উনাকে ক্ষমতা দিলেন?
আসলে এই আরব গোত্রেরকাছে যাওয়া হত দুটি উদ্দেশ্যে –
১. নিরাপত্তা অর্জন বা সাহায্য পাওয়া অর্থাৎ নুসরাহ
২. কালেমার দাওয়ায়াত পৌঁছানো বা মতাদর্শ প্রচার।
এই কালেমার কারনেই উনি ক্ষমতা পেয়েছেন অর্থাৎ মতাদর্শের মৌলিক জোরে। কারন রাসুল(সা) কালেমার একটি অংশ। আর কালেমা নিজেই রাসুল(সা)কে Promote করে। হেদায়েত কখনই পূর্ণ হবে না যতক্ষন না পর্যন্ত মুহাম্মাদ(সা)কে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল বলে মেনে নেয়া হয় এবং মুসলিম হওয়া মাত্রই উনার প্রতি আনুগত্য করা ফরয। কথাটি যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে একটা প্রশ্ন করি, ধরেন আপনি একজন অমুসলিম এবং একটি রাষ্ট্রের প্রধান। এখন আপনার কাছে যদি রাসুল(সা) এসে বলেন যে, “সাক্ষ্যদাও যে,নাই কোন মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল” । আপনি যদি মেনে নেন তাহলে কি আপনি ক্ষমতা ছেড়ে তাকে প্রধান বানাতে বাধ্য না? প্রধান মনে করতেবাধ্য। কারন সে আল্লাহর রাসুল(সা)। তাই আবারও বলছি, কালেমার মতাদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল রাসুলের প্রতিও ঈমান আনা এবং তার আনুগত্য করা ।
বিস্তারিত জানা যাক ইতিহাস থেকে,
প্রথমত, যদি মক্কার প্রধানরা, যেমন- আবু জেহেল, আবু লাহাবরাও- কালেমা মেনে নিত, তবে মক্কাতেও ইসলামি শাসন ব্যবস্থা চলে আসত। কিন্তু যেহেতু তারা মেনে নেয়নি তাই সেখানে কিছু হয়নি।
দ্বিতীয়ত, আরেকটি ঘটনা হল মক্কায় আগত হজ্ব করার জন্য বিভিন্ন গোত্র প্রধানরা যখন আসল তখনকার ঘটনা, রাসুল(সা) বনু কা’ব গোত্রের কাছে কাছে গেলেন এবং নিরাপত্তা এবং কালেমার মতাদর্শের কথা বললেন, তখন সেই গোত্রের প্রধান বলল, “আমরা আপনাকে তাড়িয়ে দিব না। আপনার প্রতি ইমানও আনব না । আমরা আপনাকে নিরাপত্তা দিব যাতেআপনি আপনার প্রতিপালকের রিসালাতের বাণী পৌছিয়ে দিতে পারেন”। তখন রাসুল(সা) তাদের এই প্রস্তাব গ্রহন করল এবং তাদের সাথে থাকতে/বসবাস করতে শুরু করল। ওই গোত্র তাদের প্রতিস্রুতি পালন করেছিল। এখান থেকে বুঝা আয় নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্যেরসাথে খিলাফাতের বা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন সম্পর্ক নাই। যদি খিলাফাতপ্রতিষ্ঠার জন্য নুসরাহ চাইতেন তাহলে রাসুল(সা) তাদের সাথে থাকতেন না কোনভাবেই। আরএখানে এটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা কালিমাতে বিশ্বাস করেনি বিধায় খিলাফাত প্রতিষ্ঠা পায়নি বা রাসুল(সা)কে প্রধান বানান নি। শুধু নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিস্রুতি দিয়েছেল, রাসুল(সা)তা গ্রহন করেছেন। যদি নুসরাহের প্রধান উদ্দেশ্য থাকত খিলাফাত।তাহলে রাসুল(সা) তা গ্রহন করতেন না বা তাদেরকে ত্যাগ করে চলে আসতেন।
তৃতীয়ত, মদিনার আওসএবং খাজরাজ গোত্র কালিমার মতাদর্শ মেনে নিল এবং নিরাপত্তা দানের প্রতিশ্রুতি করল।সেখানে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হল এবং রাসুল(সা) প্রধান হলেন।
এখানে দলিল দেয়া হলঃ


এখান থেকে আবার স্পষ্ট হচ্ছে যে, নুসরাহ বা নিরাপত্তা চাওয়ার সাথে ক্ষমতা বা খিলাফাত প্রতিষ্ঠার কোন সম্পর্ক নাই। বরং সম্পর্ক হল কালেমার মতাদর্শের সাথে। আবারও বলতেছি, বনু কা’ব গোত্র কালেমা মেনে নেয়নি বা ঈমান আনেনি কিন্তু নিরাপত্তা দিয়েছে,তাদের এই নুসরাহ/সাহায্য/নিরাপত্তা আল্লাহর রাসুল(সা) মেনে নিয়েছিলেন। যদি শুধু খিলাফাত প্রতিষ্ঠার জন্য নুসরাহ চাইতেন বা নুসরাহের একমাত্র উদ্দেশ্য হত খিলাফাত, তাহলে রাসুল(সা) তাদের সাথে বসবাস করতে থাকতেন না কোনভাবেই। আর যখন আওস এবং খারজরাজ গোত্র যখন দুটাই-কালেমার মতাদর্শ এবং নিরাপত্তা- মেনে নিল তখন সেখানে রাসুল(সা) ক্ষমতা ও নিরাপত্তা পেয়েগেলেন। অর্থাৎ কালেমার দাওয়াতের মাধ্যমে খিলাফাত বা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাপেয়েছিল।
বিষয়টা এরকম,
(কালেমার মতাদর্শ)>(ক্ষমতা/দারুল ইসলাম/খিলাফাত,(বনু সা’সাআ গোত্রের সাথে কথোপকথন))
(নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্য)> (শুধুই নিরাপত্তা, ক্ষমতা নয়(বনু কা’ব গোত্রের ঘটনা, আবিসিনিয়ায় হিজরত))
বায়াতে আকাবার ঘটনা উল্লেখ করব আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে, যেটা দেখলে বুঝা যায় আরও ভালভাবে,


নুসরাহ দিয়ে যে রাসুল(সা) খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা প্রমান করার জন্য হিযবুত তাহরির রাসুল(সা) একটা ঘটনা থেকে দলিল দেয়, যেমন বনু আমির বিন সা’সা’হদের সাথে ঘটনা। ঘটনাটা খানিকটা এরকম, তাদের মধ্যেবায়হারা বিন ফিরাস নামের একব্যাক্তি বলল, “আল্লাহ্র শপথ, কোরাইশের যুবককে সমর্থন দিলে তাঁর সাথে সমগ্র আরব জয় করতে পারব”। তারপর সে রাসুল(সা)কে জিজ্ঞাস করলেন,”আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরন করি,তারপর আপনি আপনার বিরোধীদের উপর বিজয় লাভ করেন, তাহলে আপনার পর আমরা কি রাজত্বের মালিক হব?”
এই কথা দ্বারা আরও স্পষ্ট হয় যে, কালেমার মতাদর্শের সাথে রাসুল(সা)এর রাজত্বের সম্পর্ক। কিভাবে? ওই ব্যক্তিটি বলল, //আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরন করি//এটাই আসল Point, উনি বলতেছে যে, উনি যদি কালেমার মতাদর্শ মেনে নেয়, অর্থাৎ আল্লাহকে কারও সাথে শরীক না করে এবং রাসুল(সা)কে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল বলে স্বীকার করে ও আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে চলে রাসুলের(সা) আনুগত্য করে। তাই নিরাপত্তা/সাহায্য/নুসরাহের সাথে রাসুল(সা)এররাজত্ব পাওয়ার সম্পর্ক নাই। সম্পর্ক হল কালেমার মতাদর্শের সাথে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিভিন্ন গোত্রের বিভিন্ন রকম মন্তব্য দিয়ে Coclusion করা একটা বোকামি। কারন বিভিন্ন আরব গোত্রের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের কথা শুনেছেন, বিভিন্ন ব্যবহার পেয়েছেন রাসুল(সা)। যে রকম তায়েফবাসির কাছে গেলে গোত্র প্রধান ছিল তিন ভাই। দাওয়াত প্রদান এবং নুসরাহ/সাহায্য চাওয়ার পর তিন ভাই তিন রকম মন্তব্য করেন। এখন আপনারা কি Conclusion বের করবেন তিন রকম কমেন্ট থেকে?? এরকম প্রত্যেক গোত্র বিভিন্ন রকম কথা বলেছিল। এখন আপনি ৬০/৭০ টা গোত্রের মন্তব্য নিয়ে কোন Conclusion টানলে তা হবে হজবরল তালগোল পাকানো । তাদের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তা তায়েফের প্রধান তিন ভাইয়ের মন্তব্য, প্রমানের সুবিধার জন্য এখানে দেয়া হলঃ

সবেচেয়ে বিস্তারিত এবং অথেনটিক ''আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া''না পড়ে, ছোট সংক্ষিপ্ত রচনা যেমন- আল রাহিকুলমাখতুম টাইপের বই পড়ে কোন occlusion দিলে কখনই comprehensive সত্যের ধাঁধা ধরতে পারবেন না। এর জন্য বলা হয়, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী।
তাই খিলাফাত এসেছিল কালেমার মতাদর্শের উসিলায়,নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে নয়। সত্য উন্মোচিত হওয়ার পরেও যদি বলেনযে, নুসরাহের মাধ্যমে খিলাফাত বা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তবে তা হবে চরমসত্যকে অস্বীকার এবং বিদআত। হয়ত এসব কথা সহসা মেনে নিতে কষ্ট হবে কারন এরকম ধারণারসাথে একদমি অপরিচিত আপনি। ভাল করে আবার পড়ুন দরকার হলে আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া পড়ুন।সত্য জানুন। আল্লাহু আলম।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দিন। ধৈর্য ধরেপরার জন্য জাযাক আল্লাহু খায়ের।
বিঃদ্রঃ আমার এই লেখা পড়ে আবার প্রশ্ন করবেন না যে, আপনি কি খিলাফাতে বিশ্বাস করেন? আপনি কি চান না খিলাফাত আসুক? আপনি কোনদল/কোন্দল করেন? আপনি উম্মাহের মধ্যে বিভেদ করতেছেন কেন! আপনি তো তাকিউদ্দিন নাভানি সাহেবের চেয়ে অনেক বড় ইজতিহাদকারি হয়ে গেলেন! ইত্যাদি ইদ্যাদি। তবে ইসলামসম্মত ভুল ধরিয়ে দিলে আপনার জন্য দোয়া করব। তাই দোয়ারজন্য আগেই ফী-আমানিল্লাহ বলে রাখলাম । ইন শা আল্লাহ আরও আর্টিকেল আসবে আরও প্রশ্নেরউত্তর নিয়ে ।
#######################
(বানান ভুল ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন)(ট্যাগ করার জন্য দুঃখিত)
একটি জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক ইসলামি দল হিযবুত তাহরিরের দাবি হল, নুসরাহের মাধ্যমে রাসুল(সা)খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই বিষয়টা নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক, নুসরাহ চাওয়া শুরু হয়েছিল তায়েফ গোত্রের থেকে। আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বলা আছে,
‘’ইবন ইসহাক বলেন, আবু তালিবের মৃত্যুর পর কুরায়েশরা রাসুল(সা)এর উপর এমন অত্যাচার শুরু করে যা আবু তালিবের জীবদ্দশায় কখনই করতে পারত না। তখন রাসুল(সা) তায়েফের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন‘’
আনুমানিক ৬০/৭০টা গোত্রের কাছে নুসরাহ/সাহায্য চাওয়ার সময় যে কথাগুলো রাসুল(সা) বলতেন, “তোমরা সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহা নেই এবং আমি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল। আল্লাহযা যা প্রেরন করেছেন তা মেনে নাও। আর আমাকে নিরাপত্তা দাও কারন আমার গোত্রের লোকেরা আমাকে হত্যা করতে চায়, এবং আমাকে সাহায্য কর যাতে আমি আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তাআমি সবার মাঝে পৌছুতে পারি ।”
এখানে একটা কথা গুরুত্বপূর্ণ যে, রাসুল(সা) তায়েফবাসী থেকে শুরু করে প্রায় আনুমানিক ৭০টা গোত্রের কাছে গিয়েছেন, কিন্তু ক্ষমতার/খিলাফাতের/দারুল ইসলামের কথা কোথাও বলেন নি। তাহলে প্রশ্ন জাগে, মদিনাবাসী কেনই বা উনাকে ক্ষমতা দিলেন?
আসলে এই আরব গোত্রেরকাছে যাওয়া হত দুটি উদ্দেশ্যে –
১. নিরাপত্তা অর্জন বা সাহায্য পাওয়া অর্থাৎ নুসরাহ
২. কালেমার দাওয়ায়াত পৌঁছানো বা মতাদর্শ প্রচার।
এই কালেমার কারনেই উনি ক্ষমতা পেয়েছেন অর্থাৎ মতাদর্শের মৌলিক জোরে। কারন রাসুল(সা) কালেমার একটি অংশ। আর কালেমা নিজেই রাসুল(সা)কে Promote করে। হেদায়েত কখনই পূর্ণ হবে না যতক্ষন না পর্যন্ত মুহাম্মাদ(সা)কে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল বলে মেনে নেয়া হয় এবং মুসলিম হওয়া মাত্রই উনার প্রতি আনুগত্য করা ফরয। কথাটি যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে একটা প্রশ্ন করি, ধরেন আপনি একজন অমুসলিম এবং একটি রাষ্ট্রের প্রধান। এখন আপনার কাছে যদি রাসুল(সা) এসে বলেন যে, “সাক্ষ্যদাও যে,নাই কোন মা'বুদ আল্লাহ ছাড়া এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল” । আপনি যদি মেনে নেন তাহলে কি আপনি ক্ষমতা ছেড়ে তাকে প্রধান বানাতে বাধ্য না? প্রধান মনে করতেবাধ্য। কারন সে আল্লাহর রাসুল(সা)। তাই আবারও বলছি, কালেমার মতাদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল রাসুলের প্রতিও ঈমান আনা এবং তার আনুগত্য করা ।
বিস্তারিত জানা যাক ইতিহাস থেকে,
প্রথমত, যদি মক্কার প্রধানরা, যেমন- আবু জেহেল, আবু লাহাবরাও- কালেমা মেনে নিত, তবে মক্কাতেও ইসলামি শাসন ব্যবস্থা চলে আসত। কিন্তু যেহেতু তারা মেনে নেয়নি তাই সেখানে কিছু হয়নি।
দ্বিতীয়ত, আরেকটি ঘটনা হল মক্কায় আগত হজ্ব করার জন্য বিভিন্ন গোত্র প্রধানরা যখন আসল তখনকার ঘটনা, রাসুল(সা) বনু কা’ব গোত্রের কাছে কাছে গেলেন এবং নিরাপত্তা এবং কালেমার মতাদর্শের কথা বললেন, তখন সেই গোত্রের প্রধান বলল, “আমরা আপনাকে তাড়িয়ে দিব না। আপনার প্রতি ইমানও আনব না । আমরা আপনাকে নিরাপত্তা দিব যাতেআপনি আপনার প্রতিপালকের রিসালাতের বাণী পৌছিয়ে দিতে পারেন”। তখন রাসুল(সা) তাদের এই প্রস্তাব গ্রহন করল এবং তাদের সাথে থাকতে/বসবাস করতে শুরু করল। ওই গোত্র তাদের প্রতিস্রুতি পালন করেছিল। এখান থেকে বুঝা আয় নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্যেরসাথে খিলাফাতের বা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার কোন সম্পর্ক নাই। যদি খিলাফাতপ্রতিষ্ঠার জন্য নুসরাহ চাইতেন তাহলে রাসুল(সা) তাদের সাথে থাকতেন না কোনভাবেই। আরএখানে এটা আরও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, তারা কালিমাতে বিশ্বাস করেনি বিধায় খিলাফাত প্রতিষ্ঠা পায়নি বা রাসুল(সা)কে প্রধান বানান নি। শুধু নিরাপত্তা প্রদানের প্রতিস্রুতি দিয়েছেল, রাসুল(সা)তা গ্রহন করেছেন। যদি নুসরাহের প্রধান উদ্দেশ্য থাকত খিলাফাত।তাহলে রাসুল(সা) তা গ্রহন করতেন না বা তাদেরকে ত্যাগ করে চলে আসতেন।
তৃতীয়ত, মদিনার আওসএবং খাজরাজ গোত্র কালিমার মতাদর্শ মেনে নিল এবং নিরাপত্তা দানের প্রতিশ্রুতি করল।সেখানে খিলাফাত প্রতিষ্ঠিত হল এবং রাসুল(সা) প্রধান হলেন।
এখানে দলিল দেয়া হলঃ

বনু কা'ব গোত্রের ঘটনা

ঘটনার ক্রম এবং ফলাফলের পার্থক্য
এখান থেকে আবার স্পষ্ট হচ্ছে যে, নুসরাহ বা নিরাপত্তা চাওয়ার সাথে ক্ষমতা বা খিলাফাত প্রতিষ্ঠার কোন সম্পর্ক নাই। বরং সম্পর্ক হল কালেমার মতাদর্শের সাথে। আবারও বলতেছি, বনু কা’ব গোত্র কালেমা মেনে নেয়নি বা ঈমান আনেনি কিন্তু নিরাপত্তা দিয়েছে,তাদের এই নুসরাহ/সাহায্য/নিরাপত্তা আল্লাহর রাসুল(সা) মেনে নিয়েছিলেন। যদি শুধু খিলাফাত প্রতিষ্ঠার জন্য নুসরাহ চাইতেন বা নুসরাহের একমাত্র উদ্দেশ্য হত খিলাফাত, তাহলে রাসুল(সা) তাদের সাথে বসবাস করতে থাকতেন না কোনভাবেই। আর যখন আওস এবং খারজরাজ গোত্র যখন দুটাই-কালেমার মতাদর্শ এবং নিরাপত্তা- মেনে নিল তখন সেখানে রাসুল(সা) ক্ষমতা ও নিরাপত্তা পেয়েগেলেন। অর্থাৎ কালেমার দাওয়াতের মাধ্যমে খিলাফাত বা ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাপেয়েছিল।
বিষয়টা এরকম,
(কালেমার মতাদর্শ)>(ক্ষমতা/দারুল ইসলাম/খিলাফাত,(বনু সা’সাআ গোত্রের সাথে কথোপকথন))
(নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্য)> (শুধুই নিরাপত্তা, ক্ষমতা নয়(বনু কা’ব গোত্রের ঘটনা, আবিসিনিয়ায় হিজরত))
বায়াতে আকাবার ঘটনা উল্লেখ করব আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া থেকে, যেটা দেখলে বুঝা যায় আরও ভালভাবে,

বায়াতে আকাবা, সবুজ দাগে নিরাপত্তার বিষয়

বায়াতে আকাবার বাকি অংশ
বায়াতে আকাবার ঘটনাএবং কথোপকথন থেকে স্পষ্টভাবেই বুঝা যাচ্ছে যে, রাসুল(সা) এত গভীর সমর্থন পেয়েও ক্ষমতা এবং খিলাফাতের কথা বলেন নি। বরং
ওই গোত্র প্রধানরা নিজে থেকেই ক্ষমতা দিচ্ছে এভাবে বলে যে, আপনি আমাদের
কাছ থেকে যত খুশি আল্লাহর পক্ষ থেকে অঙ্গীকার চেয়ে নিন এবং আমরা সকল
প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব এবং আপনার আনুগত্য করব। অর্থাৎ ওই দুই গোত্র নিজে
থেকেই তাকে শাসক হিসাবে মেনে নিয়েছে মুসলিম হয়ে। এভাবে স্পষ্ট হয় যে,
ক্ষমতাপাওয়াটা ছিল কালেমার মতাদর্শের কৃতিত্ব এবং দাবি। কারন তারা মুসলিম
হয়েছিল আর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রাসুল(সা)কে আনুগত্য করতেই হবে। তা তারা বলতেছেই যে,তারা আনুগত্য করবে। তাই নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্য চাওয়ার সাথে বা এর উদ্দেশ্যের সাথে ক্ষমতার কোনসম্পর্ক নাই। নুসরাহ দিয়ে যে রাসুল(সা) খিলাফাত প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা প্রমান করার জন্য হিযবুত তাহরির রাসুল(সা) একটা ঘটনা থেকে দলিল দেয়, যেমন বনু আমির বিন সা’সা’হদের সাথে ঘটনা। ঘটনাটা খানিকটা এরকম, তাদের মধ্যেবায়হারা বিন ফিরাস নামের একব্যাক্তি বলল, “আল্লাহ্র শপথ, কোরাইশের যুবককে সমর্থন দিলে তাঁর সাথে সমগ্র আরব জয় করতে পারব”। তারপর সে রাসুল(সা)কে জিজ্ঞাস করলেন,”আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরন করি,তারপর আপনি আপনার বিরোধীদের উপর বিজয় লাভ করেন, তাহলে আপনার পর আমরা কি রাজত্বের মালিক হব?”
এই কথা দ্বারা আরও স্পষ্ট হয় যে, কালেমার মতাদর্শের সাথে রাসুল(সা)এর রাজত্বের সম্পর্ক। কিভাবে? ওই ব্যক্তিটি বলল, //আপনার মতাদর্শ মেনে আপনার অনুসরন করি//এটাই আসল Point, উনি বলতেছে যে, উনি যদি কালেমার মতাদর্শ মেনে নেয়, অর্থাৎ আল্লাহকে কারও সাথে শরীক না করে এবং রাসুল(সা)কে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল বলে স্বীকার করে ও আল্লাহ যা নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে চলে রাসুলের(সা) আনুগত্য করে। তাই নিরাপত্তা/সাহায্য/নুসরাহের সাথে রাসুল(সা)এররাজত্ব পাওয়ার সম্পর্ক নাই। সম্পর্ক হল কালেমার মতাদর্শের সাথে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিভিন্ন গোত্রের বিভিন্ন রকম মন্তব্য দিয়ে Coclusion করা একটা বোকামি। কারন বিভিন্ন আরব গোত্রের কাছে গিয়ে বিভিন্ন ধরণের কথা শুনেছেন, বিভিন্ন ব্যবহার পেয়েছেন রাসুল(সা)। যে রকম তায়েফবাসির কাছে গেলে গোত্র প্রধান ছিল তিন ভাই। দাওয়াত প্রদান এবং নুসরাহ/সাহায্য চাওয়ার পর তিন ভাই তিন রকম মন্তব্য করেন। এখন আপনারা কি Conclusion বের করবেন তিন রকম কমেন্ট থেকে?? এরকম প্রত্যেক গোত্র বিভিন্ন রকম কথা বলেছিল। এখন আপনি ৬০/৭০ টা গোত্রের মন্তব্য নিয়ে কোন Conclusion টানলে তা হবে হজবরল তালগোল পাকানো । তাদের মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তা তায়েফের প্রধান তিন ভাইয়ের মন্তব্য, প্রমানের সুবিধার জন্য এখানে দেয়া হলঃ

তাইফের গোত্র প্রধান তিন ভাইএর মন্তব্য
হিযবুত
তাহরির বলে থাকে যে, রাসুল(সা) নুসরাহ অন্বেষণের সময় গোত্রের ক্ষমতা
সম্পর্কে জিজ্ঞাস করতেন, যেমন তাদের ক্ষমতা, ঘোড়া, যুদ্ধেরপারফর্মেন্স। আরে
ভাই আপনি যদি কারও কাছে আপনার নিরাপত্তা বা সাহায্য চাইতে যান তবেআপনি কি
এটা নিশ্চিত করবেন না যে, নিরাপত্তা দানকারী যথেষ্ট সামর্থ্যবান কিনা? তাই
এই ধরনের প্রস্নের উদ্দেশ্য হল, রাসুল(সা) নিশ্চিত হতেন যে তারা ভালভাবে
নিরাপত্তা দিতে পারবেকিনা । কারন তাকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য বাকি কাফের আরব
গোত্রগুলোনিরাপত্তা দানকারী গোত্রের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হতে পারে। বনু কা’ব গোত্রের কাছে গিয়ে বললেন,”আপনাদের এখানে নিরাপত্তা লাভেরপরিবেশ কেমন?”(উপরে
স্ক্রিন শট দেয়া আছে, সবুজদাগে) এই প্রশ্ন থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, আবু
বকর(রা) এবং রাসুল(সা) এর এই ক্ষমতার পরিধি জানার উদ্দেশ্য খিলাফাহ নয় বরং
নিরাপত্তা দানের যোগ্যতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা । এবং বনু কা'ব গোত্রের
কাছে ক্ষমতা-ব্যতিত,কালেমার মতাদর্শ-বিহীন নিরাপত্তা রাসুল(সা) গ্রহন
করেছেম। আর এটাও স্পষ্টহয় যে নিরাপত্তা/নুসরাহ এবং কালেমার মতাদর্শ দুটি
ভিন্ন বিষয় এবং দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে দুরকম ঘটনা বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়
ইতিহাস থেকে যদিও দুটি একসাথে ছিল। তাই এদেরকে এক করে দেখা চরম অবাস্তবিক,
কল্পনা-প্রসুত, ঐতিহাসিক-সত্য বিবর্জিত। সবেচেয়ে বিস্তারিত এবং অথেনটিক ''আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া''না পড়ে, ছোট সংক্ষিপ্ত রচনা যেমন- আল রাহিকুলমাখতুম টাইপের বই পড়ে কোন occlusion দিলে কখনই comprehensive সত্যের ধাঁধা ধরতে পারবেন না। এর জন্য বলা হয়, অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী।
তাই খিলাফাত এসেছিল কালেমার মতাদর্শের উসিলায়,নুসরাহ/নিরাপত্তা/সাহায্য চাওয়ার মাধ্যমে নয়। সত্য উন্মোচিত হওয়ার পরেও যদি বলেনযে, নুসরাহের মাধ্যমে খিলাফাত বা দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তবে তা হবে চরমসত্যকে অস্বীকার এবং বিদআত। হয়ত এসব কথা সহসা মেনে নিতে কষ্ট হবে কারন এরকম ধারণারসাথে একদমি অপরিচিত আপনি। ভাল করে আবার পড়ুন দরকার হলে আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া পড়ুন।সত্য জানুন। আল্লাহু আলম।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়েত দিন। ধৈর্য ধরেপরার জন্য জাযাক আল্লাহু খায়ের।
বিঃদ্রঃ আমার এই লেখা পড়ে আবার প্রশ্ন করবেন না যে, আপনি কি খিলাফাতে বিশ্বাস করেন? আপনি কি চান না খিলাফাত আসুক? আপনি কোনদল/কোন্দল করেন? আপনি উম্মাহের মধ্যে বিভেদ করতেছেন কেন! আপনি তো তাকিউদ্দিন নাভানি সাহেবের চেয়ে অনেক বড় ইজতিহাদকারি হয়ে গেলেন! ইত্যাদি ইদ্যাদি। তবে ইসলামসম্মত ভুল ধরিয়ে দিলে আপনার জন্য দোয়া করব। তাই দোয়ারজন্য আগেই ফী-আমানিল্লাহ বলে রাখলাম । ইন শা আল্লাহ আরও আর্টিকেল আসবে আরও প্রশ্নেরউত্তর নিয়ে ।
#######################
নুসরাহ নিয়ে এত লেখালেখির পরও এটা নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই, তাই নিজে যেভাবে বুঝেছি তা শেয়ার করছি।
প্রথমত, নুসরাহ চেয়েছিলেন শাসক হওয়ার জন্য যা আমরা গোত্রগুলোর সাথে আলোচনায় বুঝতে পারি।তারা জিজ্ঞাসা করছিল, "আপনার পর শাসক কে হবে?",কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, নুসরাহ চেয়েছিলেন ইসলামের বাণী নির্বিঘ্নে প্রচারের জন্য। তাদের কাছে প্রশ্ন, আল্লাহর বানী কি শুধু প্রচারের জন্য ছিল নাকি তা বাস্তবায়নের (যেমন হুদুদ) জন্যও ছিল? আর শাসক না হওয়া পর্জন্ত তা বাস্তবায়ন করবে কিভাবে? এটা বুঝা যায় আকাবার ২য় শপথে, যার একটা শর্ত ছিল, যে কোন পরিস্থিতিতে রাসুলের হুকুম মানা। এখন যদি শাসক বলে চোর কে মাফ কর, আর নবী বলে হাত কাট, তাহলে গ্যাঞ্জাম শুরু হবে। এতে পরিষ্কার যে নুসরাহ এবং দুইটাই ছিল শাসনক্ষমতার জন্য।
দ্বিতীয়ত, মদীনাবাসীরা বাইয়াত দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে বাইয়াত কি নবী হিসেবে দিয়েছে নাকি শাসক হিসেবে দিয়েছে? নবী হিসেবে বাইয়াত দেয়ার কিছু নেই কারণ এটা আকীদার অংশ, এটা ঈমানের অংশ, এটা বাইয়াত দিয়ে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপার না। উপরন্তু বাইয়াত সম্পর্কিত হাদীসগুলো শাসকের সাথে সম্পর্কিত (বনী ইসরাঈলের দেখাশুনা করতেন নবীগণ....জাহিলিয়াতের ম্রিত্যু..দ্বিতীয় জনকে হত্যা কর...) ইসলামে খলীফা নিয়গের পদ্ধতি হচ্ছে বাইয়াত, এটা ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি নেই। সুতরাং রাসুলকে শাসক হিসেবে বাইয়াত দেয়া হয়েছিল।
ত্রিতীয়ত, জসিমুদ্দিন রহমানী তার এক লেকচারে নুসরাহকে উসলূব ( style, যা পরিবর্তনীয়) হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এটা সঠিক নয়, কেননা, বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও তিনি সশস্ত্র সংগ্রাম করেননি, সফল হতেন কি হতেননা তা বিষয় নয়, অন্তত তিনি চেষ্টা করতে পারতেন, কিন্তু করেননি, তাছাড়া নুসরাহ চাওয়ার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের এটাই একমাত্র শরিয়াহ কর্তৃক নির্দেশিত পথ।
এটাই রাসূলের পথ, এটাই আমাদের পথ। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জিহাদের মাধ্যমে তা সম্প্রসারণ করা হবে যেরকম মক্কা এবং অন্যান্য ভুমি বিজিত হয়েছিল।
প্রথমত, নুসরাহ চেয়েছিলেন শাসক হওয়ার জন্য যা আমরা গোত্রগুলোর সাথে আলোচনায় বুঝতে পারি।তারা জিজ্ঞাসা করছিল, "আপনার পর শাসক কে হবে?",কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, নুসরাহ চেয়েছিলেন ইসলামের বাণী নির্বিঘ্নে প্রচারের জন্য। তাদের কাছে প্রশ্ন, আল্লাহর বানী কি শুধু প্রচারের জন্য ছিল নাকি তা বাস্তবায়নের (যেমন হুদুদ) জন্যও ছিল? আর শাসক না হওয়া পর্জন্ত তা বাস্তবায়ন করবে কিভাবে? এটা বুঝা যায় আকাবার ২য় শপথে, যার একটা শর্ত ছিল, যে কোন পরিস্থিতিতে রাসুলের হুকুম মানা। এখন যদি শাসক বলে চোর কে মাফ কর, আর নবী বলে হাত কাট, তাহলে গ্যাঞ্জাম শুরু হবে। এতে পরিষ্কার যে নুসরাহ এবং দুইটাই ছিল শাসনক্ষমতার জন্য।
দ্বিতীয়ত, মদীনাবাসীরা বাইয়াত দেয়। প্রশ্ন হচ্ছে বাইয়াত কি নবী হিসেবে দিয়েছে নাকি শাসক হিসেবে দিয়েছে? নবী হিসেবে বাইয়াত দেয়ার কিছু নেই কারণ এটা আকীদার অংশ, এটা ঈমানের অংশ, এটা বাইয়াত দিয়ে স্বীকৃতি দেয়ার ব্যাপার না। উপরন্তু বাইয়াত সম্পর্কিত হাদীসগুলো শাসকের সাথে সম্পর্কিত (বনী ইসরাঈলের দেখাশুনা করতেন নবীগণ....জাহিলিয়াতের ম্রিত্যু..দ্বিতীয় জনকে হত্যা কর...) ইসলামে খলীফা নিয়গের পদ্ধতি হচ্ছে বাইয়াত, এটা ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি নেই। সুতরাং রাসুলকে শাসক হিসেবে বাইয়াত দেয়া হয়েছিল।
ত্রিতীয়ত, জসিমুদ্দিন রহমানী তার এক লেকচারে নুসরাহকে উসলূব ( style, যা পরিবর্তনীয়) হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু এটা সঠিক নয়, কেননা, বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও তিনি সশস্ত্র সংগ্রাম করেননি, সফল হতেন কি হতেননা তা বিষয় নয়, অন্তত তিনি চেষ্টা করতে পারতেন, কিন্তু করেননি, তাছাড়া নুসরাহ চাওয়ার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের এটাই একমাত্র শরিয়াহ কর্তৃক নির্দেশিত পথ।
এটাই রাসূলের পথ, এটাই আমাদের পথ। রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর জিহাদের মাধ্যমে তা সম্প্রসারণ করা হবে যেরকম মক্কা এবং অন্যান্য ভুমি বিজিত হয়েছিল।
- আদনান মেহেদি //কেননা, বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও তিনি সশস্ত্র সংগ্রাম করেননি, সফল হতেন কি হতেননা তা বিষয় নয়, অন্তত তিনি চেষ্টা করতে পারতেন, কিন্তু করেননি, //
বার বার ব্যর্থ হওয়া সত্তেও যে কারন জিহাদ করেন নি তা তাফসীরে ইবন কাসিরে এসেছে, সুরা আনি নিসার-৭৭ নাম্বারে
Yesterday at 11:56 · Like · 1 - আদনান মেহেদি কেন জিহাদ করলেন তা এসেছে, বাকি অনশে। তাই আপনার প্রশ্নটা আবয়ান্তর ।। আল্লাহ জানতেন যে তাদের জন্য জিহাদের কোন স্কপ ছিলে না।
Yesterday at 11:57 · Like · 1 - আদনান মেহেদি আল বিদায়া ওয়ান নিহায়াতেও তাই এসেছে। তাই দয়া করে অবান্ত্র প্রশ্ন করবেন না যে জিহাদ কেন করল না। এবং এটা বলবেন না যে আল্লাহ খিলাফতের জন্য জিহাদ করতে বলেন নি ।
Yesterday at 12:00 · Like · 1 - Armaan Ibn Solaiman ai poristhiti te ekta kuffar bahinir kache kivabe nusrah chawa shomvob amar bujhe ashe na...
quran-hadis er ortho, bekkha nite hobe poristhiti,karon ebong shotik ortho bibechona kore..islam abegi hoye ondher moto kaj korar kono dhormo noy...
budhi ,bibechona ar gyan er dhormoYesterday at 12:04 via mobile · Edited · Like - মুক্তির পথিক আদনান মেহেদি: আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তা দিয়ে বদরে সাহাজ্য করতে পারলেন, মক্কায় করলেন না কেন? আকাবার বাইয়াত হওয়ার পর আনসাররা কাফির নেতাদের হত্যা করার অনুমুতি চাইলে রাসুল সা. নিশেধ করেন।
আর জিহাদি গ্রুপ রা বুঝ যে তাদের জিহাদ করার স্কোপ ছিলনা, সাহাবিরা কি এতই নাদান ছিলেন যে এটা তারা বুঝতনা?
আর খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহ কোথায় জিহাদ করতে বলছেন, দেখান তো, ইতিহাসে জিহাদের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করার এক্টা নজির দেখান তো?Yesterday at 12:52 via mobile · Like - মুক্তির পথিক Armaan Solaiman: নুসরাহ চাওয়ার শর্ত হল, মুসলিম এর কাছে চাইতে হবে।Yesterday at 12:54 via mobile · Like
- মুক্তির পথিক "তারা যথেষ্ট শক্তি অরজন করে"....এটাই সেই রাষ্ট্রীয় শক্তি যা বনী ইসরাঈলের ৮০ নং আয়াতের মাধ্যমে জানা যায়।
সুতরাং,,,, কাফিরদের কাছে ইসলামকে বিজয় করার জন্য জিহাদ করার আগে যে রাষ্ট্র ক্ষমতায় ওধিষ্ঠিত হতে হবে তা রাসূল সা. ই আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে গেছেন।Yesterday at 13:12 via mobile · Like - মুক্তির পথিক দয়া করে জিহাদের মাধ্যমে খিলাফত প্রতিষ্ঠার উদাহরণ হিসেবে তালেবানকে টেনে আনবেন না। শুধু হুদুদ বাস্তবায়ন করলেই খিলাফত হয়না। খিলাফত রাষ্ট্র সারা বিশ্বে ইস্লামকে ছড়াবে দাওয়াহ এবং জিহাদের মাধ্যমে, তার অর্থনীতি হবে ইস্লামিক, যা আফগান দেখাতে ব্যর্থ হয়েছিল।
জিম তানভির এর মত বলবেন্না যে ৫ বছর তাদের জন্য কম সময় ছিল। তারা যদি না পারে তাহলে ক্ষমতা নেয়াই উচিত হয়নি। কেননা রাসূল এর জীবনী থেকে আম্রা জানি যেখানে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হবে তার নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার সামর্থ্য থাকতে হবে, নুসরাহ চাওয়ার সময় রাসূল এই প্রশ্নগুলা করেছিলেন। অই রাষ্ট্রের সক্ষমতা থাকতে হবে, অন্যের বলয়ে থাকা যাবেনা। হিযবের ভাষায় একে বলে মাযাল ভুমি।
Hizbut tahrir is more perfect than ony other in terms of understanding the state affairs....
plz read... explanation of draft constitution by hizb.Yesterday at 13:23 via mobile · Like · 1 - আদনান মেহেদি মুক্তির পথিক ভাই, আপনার প্রশ্ন //আল্লাহ তায়ালা ফেরেস্তা দিয়ে বদরে সাহাজ্য করতে পারলেন, মক্কায় করলেন না কেন? //
উত্তর তো তাফসীরেই বলা আছে। আগে পড়ুন তারপর বলুন।
//আকাবার বাইয়াত হওয়ার পর আনসাররা কাফির নেতাদের হত্যা করার অনুমুতি চাইলে রাসুল সা. নিশেধ করেন।/
রাসুল(সা) তো নুসরাহ এবং খিলাফাত দুটাই পেলেন বায়াতে আকাবের পর।, কিন্তু কেন রাসুল(সা) আক্রমন করতে মানা করলেন না?
- মুক্তির পথিক nah uttor pelamna....
akromon korte mana korlen karon tini nijei tokhono rastre giye pouchanni...rastre pouchanor por tini bivinn bahinike gazway pathiyechen....sutorang jihad korechen rastro khomotay odhisthit howar pore age noy..ar tachara akromon kore hotta kore khomotay jawa islamik podhoti noy, seta hole to agei korte parten - আদনান মেহেদি তাফসীরে বলা নাই কেন আক্রমন করতে আল্লাহ বলেন নি বা অনুমতি দেন নি? ভাই এবার একটু কস্ত করে বলেন তো আমি যে স্ক্রিন শট দিয়েছি তাতে কি লেখা আছে?
- মুক্তির পথিক আচ্ছা, প্রথম স্ক্রিনশটটাতে। হ্যা পেলাম। ইবনে কাসির কোন angle থেকে লিখেছেন তা জানিনা, তবে আপনি নিশ্চই জানেন যে শরিয়াহর হুকুম সং্খ্যাধিক্য দিয়ে হয়না, বরং সামর্থ্যের কারণে হয়, যাকাতের সামর্থ্য যার আছে সে দিবে। তেমনি ইবন কাসির উল্লেখ করেছেন যে, মদীনায় শক্তি অর্জনের পর জিহাদের হুকুম নাযিল হয়। এই শক্তি কি শক্তি ছিল তা বনী ইসরাঈলের ৮০ নং আয়াত দ্বারা প্রমাণিত।
এ থেকেই প্রমাণিত যে, জিহাদের সঠিক প্রয়োগের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্র। কেননা আল্লাহ বলেছেন, যেন আমরা আমাদের সামর্থ্য দিয়ে প্রস্তুত হই এবং এমন অস্ত্র প্রয়োগ করি যা কাফিরদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করবে। রাষ্ট্র জিহাদের জন্য বাজেট করবে, সমরশিল্প গড়ে তুলবে, নতুন অস্ত্র আবিষ্কার করবে, যা দল কিংবা গ্রুপ করতে পারেনা, আল্লাহ তায়ালা এটাই আমাদেরকে রাসূলের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন।
আপনি জানতে চেয়েছিলেন নুসরাহ পাওয়ার পর ও কেন রাসুল কাফির নেতাদের হত্যা করতে নিশেধ করেছিলেন, উত্তর হল যাতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যপারে সশস্ত্র সংগ্রাম এর উদাহরণ কেউ দেখাতে না পারে। সশস্ত্র সংগ্রাম এর মাধ্যমে রাসূল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন নি, করেছেন ক্ষমতাশালি ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষমতা চাওয়ার মাধ্যমে। - মুক্তির পথিক ইবনে কাসীর হতেই পরিষ্কার, আল্লাহ রাষ্ট্রের মাধ্যমে তাদেরকে সুবিধা, নিরাপত্তা দান করলেন, সং্খ্যায় বাড়ালেন, এটাও এক্টা দলিল যে আক্রমনাত্মক জিহাদের জন্য রাষ্ট্র লাগে। এটা ত জিহাদের জন্য কি লাগবে তার হুকুম, তাহলে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে কি লাগবে, সেটার হুজুম কোথায়?.... সেটা মক্কার ১৩ বছরের রাজনইতিক সংগ্রাম এবং পরিশেশে নুসরাহ,,,,, সেখানে সশস্ত্র সংগ্রামের কোন স্থান নেই।
তবে জিহাদি গ্রুপ ম্নে করে রাস্ট্র আছে,আপ্নিও যদি তাই মনে করেন তাইলে বইলেননা যে আসেন জিহাদের মাধ্যমে রাস্ট্র কায়েম করি। রাস্ট্র যদি থেকেই থাকে তাইলে আবার নতুন করে কায়েমের কি অর্থ থাকতে পারে।








//ইবনে কাসির কোন angle থেকে লিখেছেন তা জানিনা, //
উত্তরমুছুনইমাম কাসির কোন angle দিয়ে লিখছে? আপনার চিন্তার ভাবনার angle এর সাথে মিলতেছে না!! দুঃখজনক!
//যে শরিয়াহর হুকুম সং্খ্যাধিক্য দিয়ে হয়না, বরং সামর্থ্যের কারণে হয়, যাকাতের সামর্থ্য যার আছে সে দিবে। //
যাকাতের সামর্থ্য আসে কিভাবে সম্পদের সংখ্যা দিয়ে,তাই না?
//আপনি জানতে চেয়েছিলেন নুসরাহ পাওয়ার পর ও কেন রাসুল কাফির নেতাদের হত্যা করতে নিশেধ করেছিলেন, উত্তর হল যাতে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যপারে সশস্ত্র সংগ্রাম এর উদাহরণ কেউ দেখাতে না পারে।//
এই কথা কি আপনার মনের ফতয়া থেকে বললেন? আপনার এই কথার back up হিসাবে তাকি সাহেব ছাড়া প্রথম ৫০০ বছরের সলফে সালেহিনদের মতামত দেখাতে পারবেন?
// সশস্ত্র সংগ্রাম এর মাধ্যমে রাসূল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন নি, করেছেন ক্ষমতাশালি ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষমতা চাওয়ার মাধ্যমে।//
বায়াতে আকাবার সময় তারা যে আক্রমন করতে চেয়েছিল তা কি তারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য করতে চেয়েছিল? মক্কায় সাহাবীরা যে অস্ত্র ধরতে চেয়েছিল তা কি তারা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য করতে চেয়েছিল ? যদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ করতে না চেয়ে থাকে, তাহলে আপনারা এই ফতোয়া কথা থেকে পেলেন যে, রাসুল(সা) খিলাফাত প্রতিষ্ঠার জন্য জিহাদ বা অস্ত্র ধরতে নিষেধ করেছেন? নাকি কিসের সাথে কি পান্তা ভাতে ঘি টাইপের Theory.
আপনারা সিরিয়াতে নুসরাহ নিয়ে কি প্রতিষ্ঠা করতেছেন? যাই হোক রাসুল(সা) যখন নুসরাহ পেলেন তখনই কি উনি মদিনা রাষ্ট্রের প্রধান না? রাষ্ট্রই যদি জিহাদের আসল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে কেন রাসুল(সা) মদিনায় গিয়ে আগে জিহাদের ডাক দিলেন না? কেন প্রথম যুদ্ধই কাফেররা আগে ডাকল , উনি আগে কেন ডাকলেন না? মক্কায় কি কাফেররা যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল মুসলিমদের উপর যে যুদ্ধ করতে হবে? কিন্তু মক্কায় অত্যাচারের বদলে কেউ উল্টা সাইজ করতে গেলে
জিহাদ সর্বকাল অব্যাহত থাকবে। আবু দাউদ, ৩য় খন্ড,জিহাদ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ ২৭৫
উত্তরমুছুন