হিযব-উত-তাহরীর এবং জিহাদি গ্রুপসমূহঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
**************************************
বাংলাদেশে কিছু হিযবি ব্রাদারদের সাথে কিছু জিহাদপন্থী মুসলিম ভাইদের “কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি” বিস্ময়কর!
------------------------------------------------------------------------
একথা সত্য একই গ্লোবাল খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রত্যাশী এই দুই পক্ষের
মধ্যে মানহাযগত ‘ঊসূলী’ মতপার্থক্য আছে। অতএব মতপার্থক্য যখন ‘ঊসূলী’,
গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলামিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ‘হারাম’ হওয়ার ব্যাপারে
দুই পক্ষই যখন ফিক্বহি দৃষ্টিভংগিতে একমত, তাহলে “কাদা ছোড়াছুঁড়ি” হবে কেন?
-----------------------------------------------------------------
ইজতিহাদের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করতঃ একজন মুজতাহিদ তার ডেরাইভেশানকে
দলীলের দিক থেকে অধিকতর শক্তিশালী হিসেবে পেলে, (কিছু শরয়ী ব্যতিক্রম
ব্যতীত) তিনি নিজেই ঊসূলী মূলনীতি অনুযায়ী তা অনুসরন করে যেতে বাধ্য। আর
মুকাল্লিদ হলে তো কথাই নেই! তাহলে হিযব কিংবা জিহাদি পক্ষ যার যার
ইজতিহাদকে ঊসূলের ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী শক্তিশালী হিসেবে পেলে তার তার
মুজতাহিদকে অনুসরন করে যাবেন, এতে ‘সমস্যা’ কোথায়? বরং উম্মাহ’র সামনে
ইজতিহাদ নিয়ে ‘হেলদি স্কলারি ডিবেইট’ চলতে পারে, চলা উচিত, যাতে তারা
ইসলামের প্রতিষ্ঠার ‘বৈধ’ মানহাযগুলোর মধ্য থেকে সঠিকতরটি বেছে নিয়ে তার
ফরয দায়িত্ব পালন করতে পারে (এবং কুফর গণতন্ত্রের মতো হারাম পদ্ধতিতে না
যায় বা গিয়ে থাকলে ফিরে আসে); তবে “কাদা ছোড়াছুঁড়ি”র অবকাশ কোথায়?
-------------------------------------------------------------------------
যে রাসূল(সাঃ)-এর সুন্নাহ’র উপর ভিত্তি করে হিযব তার মানহায এক্সট্রাক্ট
করেছে এবং কখনই তা থেকে এতটুকু বিচ্যুত হয়নি, যে সালাফদের পাই-টু-পাই
ইত্তেবা করবার ব্যাপারে জিহাদি ভাইয়েরা দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ – তাদের সময়ে ঊসূলী
মতভিন্নতা ছিল না? তারা “কাদা ছোঁড়াছুড়ি” করতেন? তাহলে কিসের সুন্নাহ
অনুসরন! কোথায় রইল সালাফদের ইত্তেবা!
---------------------------------------------------------------------------
বরং এই দুই পক্ষের যার যার রোল যে রাদার কমপ্লিমেন্টারি, তা খোঁজার বা
বোঝার জন্য খাইরুল ক্বুরুনেও যাওয়ার প্রয়োজন নেই (কমন সেন্সই যথেষ্ট ছিল),
আজকের আশ-শাম এর প্রকৃ্ষ্ট উদাহরন! হিযবি বা জিহাদি দাবীদার সেই গুটিকতক
পরিবেস নষ্টকারি ভাইদের আহ্বান জানাই, সিরিয়াতে গিয়ে দেখুন তো একপক্ষ
আরেকপক্ষ সম্পর্কে কে বলে! একে অপরের ব্যাপারে “কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি” করছে, একে
অপরের ব্যাপারে ‘নীরব’, নাকি একে অপরের কাজকে যার যার অবস্থানে অটল থেকেই
আঞ্জাম দিচ্ছে, পরস্পরের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা-ভালবাসা নিয়েই, যাতে চূড়ান্ত
এবং কমন লক্ষ্য তথা গ্লোবাল খিলাফাহ ফিরে আসে!
--------------------------------------------------------------------------------
কিভাবে শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছিল হিযব শাইখ উসামা বিন লাদেনের প্রতি যখন
তাঁকে ব্রুটালি শহীদ করে দিয়েছিল কুফফার ইয়াংকিরা? কিভাবে প্রশংসা ঝরেছিল
আরেক শহীদ ইমাম আনওয়ার আল-আওলাকি’র কণ্ঠে হিযবের প্রতি, মতভিন্নতা বহাল
থাকা সত্ত্বেও, যখন তিনি মিলিত হয়েছিলেন হিযবের শাবাবদের সাথে জর্ডানে?
তাহলে এই “কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি” কারা করে? কেন করে? নিশ্চিতভাবে অজ্ঞতাবশত অথবা
তার খায়েশিয়াতকে চরিতার্থ করবার জন্য শায়ত্বানের দোসর হিসেবে!
-----------------------------------------------------------------------
আমি হিযবের একজন নগণ্য-নাদান শাবাব, আমি হিযবের মানহাযকে ঊসূলী
ক্রাইটেরিয়ায় অধিকতর শক্তিশালী পেয়েই খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য হিযবের
আনুগত্যে এই ফরযটি আদায়ের দুর্বল চেষ্টা করে যাচ্ছি (আল্লাহ আমার গুনাহগুলো
ক্ষমা করে দিন! আমার অক্ষমতাগুলো সারিয়ে দিন! আমীন)। কিন্তু সিরিয়াতে আমার
জিহাদি ভাইদের স্যাক্রিফাইসে আমার অন্তর কাঁদে না? তাদের সাফল্যে আমার বুক
ফুলে উঠে না? ঠিক যেভাবে আমাদের মতই জিহাদি ভাইদেরও অশ্রু ঝরে দুনিয়া জুড়ে
উম্মাহ’র অবর্ণনীয় জুলুমের অসহায় শিকার হওয়া দেখে? আমাদের উভয়ের আবেগ সেই
স্বপ্নে বিভোর, আল্লাহ’র জমিনে আবারও ইসলাম বিজয়ী দ্বীন হিসেবে কালেমার
ঝান্ডা উড়াবে! জিহাদের ময়দানে মুজাহিদদের ক্ষত-বিক্ষত লাশদের মতোই জালিমের
কারাগারে নিগৃহীত হচ্ছে, শহীদ হচ্ছে হিযবের কত হাজার হাজার শাবাব! তাহলে
কেন এই “কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি”?
---------------------------------------------------------------------------
নিজেদের মানহায বহির্ভূত বলে হিযব কি জিহাদি ভাইদের এই প্রচেষ্টাকে নিস্ফল
মনে করে (যেভাবে আমরা উভয়ই কুফর গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে
একমত)? জেনে রাখুন, মোটেও না! ইস্তেতা’ তথা সামর্থ্য অর্জিত হলে জালিমের
মুনকার উৎপাটনের লড়াইকে হিযব ঊসূলী দৃষ্টিতেই ‘বৈ্ধ’ মনে করে; শুধু তাই নয়,
হিযব এও মনে করে কোন মাজালে একটি জিহাদি গ্রুপও আহলুল হাল্লি ওয়াল আক্বদের
অংশে পরিণত হতে পারে যে কিনা খিলাফত প্রতিষ্ঠার জন্য নুসরাহ প্রদানের
যোগ্য! তাহলে এদের পরস্পরের কার্যক্রম তো কমপ্লিমেন্টারি, এরপরও “কাদা
ছোড়াছুড়ি”?
---------------------------------------------------------------------------
আমি নিজে যদি কখনও কোন জিহাদি ভাইয়ের সাথে অন্যায় আচরন করে থাকি, তবে মাফ
চেয়ে নিলাম! আসুন পরস্পরের প্রতি ইসলামি আখলাক্ব ও খুলুসিয়াত নিয়ে আচরন করি
এবং গড়ে তুলি ইসলামী ভ্রাতৃ্ত্বে্র মাধুয্যময় ঈমানী পরিবেশ! এরপরও যারা
“কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি” করতে আসবে তাদের এই আচরনকে এতটুকু প্রশ্র্য় না দিয়ে
পুরোপুরি ছুঁড়ে ফেলি!
comment: 1)
মুসলিম
উম্মাহ’র এই দুর্দিনে উম্মাহ’র মধ্যস্থিত যে দলগুলো খিলাফত প্রতিষ্ঠার
জন্য কাজ করছে তাদের মধ্যে সবচাইতে বেশী যে জিনিসটা প্রয়োজন, তা হল ঐক্য
এবং পরমত সহিঞ্চুতা। কারণ, এ দলগুলোর মধ্যে পদ্ধতিগত মতপার্থক্য থাকলেও
আদর্শিক বা লক্ষ্যগত কোন পার্থক্য নেই। তাই,
উম্মাহ’র বৃহত্তর স্বার্থকে বাদ দিয়ে ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে অহেতুক নিজেদের
মধ্যে কোন্দল করা সম্পূর্ণ আত্মঘাতী এবং সাম্রাজ্যবাদী কুফর শক্তির জন্য তা
সহায়ক। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা নিজেদের মধ্যে যতদিন কোন্দল, কাঁদা
ছোড়াছুড়ি বা ঝগড়াঝাটি করবো ততদিন আমরা দূর্বল থাকবো এবং ঐক্যবদ্ধ ভাবে
কাফির-মুশরিক শক্তিকে মোকাবিলা করতে পারবো না। আমাদের মধ্যকার এই কোন্দল বা
বিভাজন প্রকারন্তরে কাফির-মুশরিক শক্তিকেই সহায়তা করবো। সুতরাং, হিযব আর
জিহাদী ভাইদের বলবো, খিলাফাহ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা জীবন বাজী রেখেছেন
কিন্তু এই সামান্য বিষয়টি যদি আপনাদের বোধগম্য না হয় তাহলে এটা অত্যন্ত
দু:খজনক ও লজ্জাজনক। তাই আসুন, বিএনপি আর আওয়ামীলীগের কুফর রাজনীতির মত একে
অপরের প্রতি ঘৃণ্য কাঁদাছুড়াছুড়ি না করে পরমতসহিঞ্চু হই এবং খিলাফাহ
প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করি। আল্লাহ আমাদের চেষ্টাকে কবুল করুন।
আমিন।
2)
জাযাকাল্লাহ।
খুবই দরকার ছিল এই পোস্ট টি। আমি নিজেই এ বিষয়ে বিস্তারিত একটা লিখব
চেয়েছিলাম, কিন্তু সুবহানাল্লাহ আপনার পয়েন্ট গুলোর সাথে আমার পরিকল্পিত
পয়েন্টসমূহ হুবুহু মিলে গেল
ওয়াইডলি শেয়ার দেয়া উচিৎ।
আর যারা এসব পোস্ট পরার পরও মকিং চালু রাখবে তাদের জন্য তা'যির শাস্তির ব্যবস্থা শুরু করতে হবে
আপনাকে ধন্যবাদ ।অন্তরের কথাই বলেছেন
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
উত্তরমুছুনএখানে একটি বিষয় উল্লেখ হয়নি, সিরিয়াতে জিহাদীরাই এক হিযবুত তাহরীর সদস্য (মুস্তাফা খাইয়্যাল) কে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। সুতরাং জিহাদী শব্দ ব্যাবহার করে আম ভাবে সবাইকে সালাফদের ইত্তেবা অনুসরণকারী হিসেবে দেখানোটাও কতটুকু সঠিক তা বিবেচনার দাবী রাখে। কেননা আলজেরিয়ার জিহাদ নষ্টকারী লোকজনও কতিপয় জিহাদীই ছিল।
উত্তরমুছুনএত জিহাদ বুঝেন, আপনারা সঠিক পন্থায় জিহাদ করেন। নিজেরা জিহাদ করেন না আরেকজন করলে ভুল ধরেন । ঘরে চুরি পরে বসে থাকলে কোন ভুল হয় না । কিন্তু যারা মাঠে ময়দানে জীবন বাজি রেখে কাজ করে তাদেরই ভুল হয় । সাহাবিরাও জিহাদের ময়দানে ভুল করেছেন । উনারা চুরি পরে ব্লুগে বইসা বইস সমালোচনা করলে, উনাদের কোন ভুল হট না ।
মুছুনযারা জিহাদে ভুল করে তাঁরা তাদের থেকে উত্তম যারা জিহাদ করে নাই । এই কথা বিশ্বাস না হলে ১০০ জন আলেম উয়ালাকে জিজ্ঞাস করেন
এত জিহাদ বুঝেন, আপনারা সঠিক পন্থায় জিহাদ করেন। নিজেরা জিহাদ করেন না আরেকজন করলে ভুল ধরেন । ঘরে চুরি পরে বসে থাকলে কোন ভুল হয় না । কিন্তু যারা মাঠে ময়দানে জীবন বাজি রেখে কাজ করে তাদেরই ভুল হয় । সাহাবিরাও জিহাদের ময়দানে ভুল করেছেন । উনারা চুরি পরে ব্লুগে বইসা বইস সমালোচনা করলে, উনাদের কোন ভুল হট না ।
উত্তরমুছুনযারা জিহাদে ভুল করে তাঁরা তাদের থেকে উত্তম যারা জিহাদ করে নাই । এই কথা বিশ্বাস না হলে ১০০ জন আলেম উয়ালাকে জিজ্ঞাস করেন